মালয়েশীয় পাম অয়েলের মজুদ গত ডিসেম্বরে প্রায় সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। এ সময় রফতানি বাড়লেও ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন মজুদ বাড়ার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স পরিচালিত জরিপে অংশ নেয়া কিছু ব্যবসায়ী, বাগান মালিক ও বিশ্লেষকের হিসাব অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ বেড়ে ২৯ লাখ ৭০ হাজার টনে দাঁড়াতে পারে, যা নভেম্বরের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এছাড়া এটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
জরিপ অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় অপরিশোধিত পাম অয়েল (সিপিও) উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টনে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ উৎপাদন।
এদিকে মালয়েশিয়া থেকে ডিসেম্বরে পাম অয়েলজাত পণ্য রফতানি ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জরিপ। তবে মুম্বাইভিত্তিক ভেজিটেবল অয়েল ব্রোকার সানভিন গ্রুপের গবেষণা প্রধান অনিলকুমার বাগানি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদনে সাধারণত যে বড় ধরনের পতন দেখা যায় তা এবার হয়নি।’
এদিকে রিঙ্গিতের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় ফিউচার মার্কেটে গতকাল মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অন্যান্য ভোজ্যতেলের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বড় আকারের দরপতনকে সীমিত করে তুলেছে।
বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে গতকাল পাম অয়েলের দাম কমেছে টনে ১৪ রিঙ্গিত বা দশমিক ৩৫ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য নেমে এসেছে ৪ হাজার রিঙ্গিতে (৯৮৭ ডলার ৪১ সেন্ট)।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘গতকাল মালয়েশীয় পাম অয়েলের ফিউচার মার্কেটে মূলত ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (ডিসিই) ও রিঙ্গিতের গতিপথ অনুসরণ করছে।’
ডিসিইতে গতকাল সয়াবিন তেলের চুক্তির দাম বেড়েছে দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সময় পাম অয়েলের দাম বেড়েছে দশমিক ২৮ শতাংশ।
ভারতে ডিসেম্বরে পাম অয়েল আমদানি নেমে এসেছে আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে। শীতকালীন নিম্নমুখী চাহিদার পাশাপাশি দেশটির পরিশোধনকারীরা সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের মতো বিকল্প ভোজ্যতেল আমদানি বাড়ানোয় পাম অয়েলের চাহিদা কমেছে বলে পাঁচজন ডিলার জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত দেশটির অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পাম অয়েল রফতানির পরিমাণ ছিল মোট ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টন।